ভাগীরথী নদীর ভাঙ্গনের আতঙ্কে তটস্থ নবদ্বীপের মহিশুরার গ্রামবাসীরা
দিবাকর দাস, হাকীকত নিউজ, নদিয়া: পুজোর আগে ফের নতুন করে ভাগীরথী নদীর ভাঙ্গনে বিপন্ন নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিতাপাড়া সহ তিনটি এলাকার প্রায় হাজারও কৃষিজীবী মানুষজন। বিঘের পর বিঘে জমিতে রয়েছে ফলন্ত ফসল, দুশ্চিন্তায় চাষীরা, ভাঙ্গনের কবলে পড়লে গোটা চাষের জমিটাই জলের তলায় চলে যেতে পারে, শুধু কৃষিজীবী মানুষই নয়, আতঙ্কে প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন তিনটি গ্রামের অন্যান্য পেশায় যুক্ত বহু গ্রামবাসী। এর আগেও ভাঙ্গন গ্রাস করেছে বিঘের পর বিঘের জমি। ভাঙ্গনের আতঙ্কে ঘুম উড়ে গিয়েছে গ্রামীবাসীদের, ভাঙ্গন রোধের জন্যে যেই বোল্ডার বসানো হয়েছিল তার অবস্থা খুবই শোচনীয়, তাই এই ভাঙ্গন হয় হয় করে ত্রস্ত হয়ে আছেন গ্রামের মানুষ।স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য হায়দার মালিতা বলেন, “গত বছরেরও ঠিক একইভাবে মালিতাপাড়া সহ চৌধুরী পাড়া, সর্দার পাড়ায় তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছিল। সেই সময় জেলা সেচদপ্তর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে, যার জেরে ভাঙ্গন কিছুটা আটকায়। সম্প্রতি সেই জায়গায় ফের নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন গুনছেন এলাকার বাসিন্দারা”। তিনি বলেন, “বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা চলছে। দেখা যাক তারা এবার কি ব্যবস্থা নেয়”। স্থানীয় সূত্রে জানতে পারা যায়, ২০১৯ সালে ভাঙ্গনরোধে ভাগীরথী নদীর পাড় বাঁধানোর জন্য প্রথমে দুই কিলোমিটার এবং পরে আরও দুই কিলোমিটার, সব মিলিয়ে মোট ৪ কিলোমিটার পাড়ে প্রায় এক কোটি টাকার বালির বস্তা ও বোল্ডার ফেলা হয়। মালিতাপাড়া থেকে চৌধুরীপাড়া এবং সর্দার পাড়া প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙ্গনের কবলে পরে বিঘে বিঘে কৃষি জমি থেকে গ্রামের রাস্তা আজ বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা যাচ্ছে এই বিষয়ে স্থানীয় মহিশুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে নদীয়া জেলা শাসকের কাছে সম্পূর্ণরূপে জানানো হয়েছে। একাধিক গ্রামবাসীর দাবি স্থায়ীভাবে ভাগীরথীর পাড় না বাধালে, প্রায় দুশোটি পরিবারের কাঁচা পাকা ঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাজি মালিতা বলেন, “এর আগের বছর ও ভাঙ্গন হয়েছে, খুবই চিন্তার মধ্যে রয়েছি, আমরা গরিব মানুষ, ভাঙ্গনের কবলে পড়লে আমরা যাবো কোথায় “।






