বর্ষবরণের আনন্দ মুখরিত হোক প্রতিটি মুহূর্ত – শুভ নববর্ষ ১৪৩০
নন্দ দুলাল ভট্টাচার্য, হাকিকত নিউজ, কোলকাতা : পহেলা বৈশাখ বা পয়লা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষের মাধ্যমে আপামর বাঙালির জীবনে পুনরায় হতে চলেছে নতুন দিগন্তের সূচনা। এই দিনটি আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে বিশাল জাঁকজমক করে পালিত হয়। এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু মুছে নতুনকে স্বাগত জানাবে বাঙালি জাতি।কয়েকজন ঐতিহাসিকের মতে, বাংলা দিনপঞ্জি উদ্ভব হয়েছিল রাজা শশাঙ্কের সময় থেকে। পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট আকবর এটিকে রাজস্ব বা কর আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিবর্তিত করেন। ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতো রাজকীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ৯৯২ হিজরিতে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।বাংলার ঐতিহ্যকে যে সকল উৎসব অনুষ্ঠান ধারণ করে আছে সে গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ। সুপ্রাচীন কাল থেকেই বাঙালিরা পহেলা বৈশাখকে নববর্ষ হিসেবে পালন করে আসছে । নববর্ষ বাঙালির সহস্র বৎসরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ,রীতিনীতি, প্ৰথা, আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বাঙালিরা এই দিনে পুরানো বছরের ব্যর্থতা,ব্যথা, নৈরাশ্য,গ্লানি ভুলে গিয়ে নতুন বছরকে মহানন্দে বরণ করে নেয়,সমৃদ্ধি ও সুখময় জীবনের প্রত্যাশায় ।





