ছুটির মরশুমে টুরিস্ট আসছে না, দুশ্চিন্তায় নবদ্বীপ পোড়ামাতলার দোকানিরা ও মন্দির কতৃপক্ষ
দিবাকর দাস, হাকিকত নিউজ, নদিয়া : নবদ্বীপ শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলা মন্দির। চৈতন্যভূমি নবদ্বীপের অনেক জায়গায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন মন্দিরের মধ্যে মা পোড়ামার মন্দির জনপ্রিয়। এই ঐতিহাসিক স্থানকে ঘিরে রয়েছে নবদ্বীপবাসীর আবেগ, সারাবছর দূর দূরান্তের মানুষ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ নবদ্বীপে ঘুরতে আসলে অন্তত একবার পোড়ামা মন্দির দর্শন করে পুজো দিয়ে যান, সারাদিন পোড়ামাতলা চত্বর ভিড়ে থিকথিক করত। কিন্ত এবছর বাধ সেধেছে করোনা, লকডাউনের প্রথম থেকেই পোড়ামা মন্দির বন্ধ হয়ে যায়, আনলক ওয়ান জুন মাসে মন্দির খুললেও সেই আগের মত লোক সমাগম আর দেখা যায় না।

পোড়ামাতলাকে ঘিরে রয়েছে ঠাকুরের ভোগ, মেয়েদের ব্যবহারের মনিহারি জিনিস ও বিভিন্ন পণ্যের দোকান, বহু পরিবারের রুটি রোজগার নির্ভর করে পোড়ামাতলার লোক সমাগমের ওপর, লকডাউনে টানা কয়েক মাস দোকান বন্ধ থাকায় আর্থিক পরিস্থিতি সবারই খারাপ, লকডাউন শেষ হলেও, ধীরে ধীরে সব খুলে যাওয়ার পরেও ট্রেন চললেও টুরিস্ট আসছেনা, যার যারে ব্যবসায়ীরা ভাবছেন যদি ভ্যাকসিন বেরোয়, তবেই হয়ত মানুষ আবার ঘর থেকে বেরোবো, পুরোনো দিন আবার ফিরে আসবে। পোড়ামাতলা মন্দিরের সামনের ঠাকুরের ভোগ বিক্রেতা মানিক মল্লিক বলেন, “বাইরে থেকে লোক একদমই আসছে না, টুরিস্ট নেই, এখন দোকান খুলে পুরোপুরি বসে আছি, লোকে ভোগ কিনছে না, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, ভ্যাকসিন না বেরোলে বলা মুশকিল “। পোড়ামা মন্দিরের পুরোহিত মানিকলাল ভট্রাচার্য বলেন, “দুই একটা লোক আসছে বাইরে থেকে, ভোগের দোকানদার, ফুলের দোকানদার,আমরা মন্দির কতৃপক্ষ সবাই বসে আছি,গত এগারো মাসে যা ক্ষতি হয়েছে, তা আগামী পাঁচ বছরেও পূরণ করা যাবে না “।





