“রাজ্য সরকারের সহযোগিতা মিললেই রেলের কাজ শুরু হবে” বললেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার
দিবাকর দাস, হাকিকত নিউজ,নদিয়া : বুধবার দুপুরে শান্তিপুর নবদ্বীপ ট্রেনের কাজ দেখতে জয়েন্ট ইন্সপেকশনে আসলেন শিয়ালদহ শাখার ডিআরএম শিলেন্দ্র প্রতাপ সিংহ ও রানাঘাট কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার । এদিন দুপুর একটায় ডিআরএম সহ সাংসদ কৃষ্ণনগর কোতোওয়ালি থানার আমঘাটা স্টেশনে এসে পরিদর্শন করেন, এরপর সেখান থেকে নবদ্বীপ ব্লকের স্বরূপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরতলা ও স্বরূপগঞ্জ নবদ্বীপঘাট স্টেশন পরিদর্শন করে মহিশুরা যান । এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিআরএম শিলেন্দ্র প্রতাপ সিংহ বলেন, “এখানে আমঘাটা স্টেশন পর্যন্ত রেলের কাজ ও পরিকাঠামো তৈরী,এর পরে জমির কারণে কাজ আটকে আছে, আমরা অপেক্ষা করছি রাজ্য সরকারের জমি অধিগ্রহণ করার জন্যে, আমরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলছি, রাজ্য সরকার জমি দিলেই কেন্দ্রীয় সরকার ও রেলের পক্ষ থেকে রেল চালু করা হবে, জমি পেলেই ২-৩ বছরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে “। এদিন সাংসদ জগন্নাথ সরকার অবশ্য দাবি করেন যে রেল স্বরূপগঞ্জ অবধি নিয়ে যাওয়ার সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি, জগন্নাথ বাবু বলেন,”রেলের পক্ষ থেকে বাজেট থেকে সব কিছুই করা হয়েছিল, নকশা করা হয়েছিল, কিন্তু কিছু বাধার জন্যে রেল করতে পারেনি, রাজ্য সরকারের থেকে সহযোগিতা মেলেনি, উচ্ছেদ করতে পারেনি বলে স্বরূপগঞ্জ অবধি রেল যায়নি, এখান থেকে আমঘাটা থেকে রেল ব্রিজ করার পরেও, সরকারের পক্ষ থেকে জায়গা দেওয়ার পরেও রেল ব্রিজ করে দিয়েছে,কিন্ত তারপরে যে এলাকা পড়েছে সেই এলাকায় উচ্ছেদ করতে পারেনি, জনগন দেওয়ার জন্যে তৈরী, এখানে যে মার্জার কমিটি ও মন্দির কমিটি ও জনগন আছে তাদের সাথে আমি কথা বলেছি তারা বলেছে পুনর্বাসন দিলে তারা জায়গা দেওয়ার জন্যে তৈরী, মার্জার কমিটি বলেছে রেলের জায়গা হলে ছেড়ে দেবে, মন্দির কমিটি বলেছে যদি সম্পূর্ণ মন্দিরের জায়গা ছেড়ে দিতে হয় নবদ্বীপের মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা বৃহত্তর স্বার্থে সম্পূর্ণ জায়গা ছেড়ে দেবো, রেল হওয়ার জন্যে প্রস্তুত, রাজ্য সরকারের সহযোগিতা মিললেই রেলের কাজ শুরু হবে, রেল মন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে পরিদর্শন করা হচ্ছে, নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই, আমি যেদিন থেকে সাংসদ হয়েছি তারপর থেকেই ধাপে ধাপে অগ্রগতি ঘটছে”।নবদ্বীপ শান্তিপুরের রেল এক সময় ন্যারোগজ ছিল, তারপর ব্রডগেজ লাইন এ পরিবর্তন করে আমাঘাটা অবধি নতুন স্টেশনের কাজ হয়ে জমি সমস্যায় থমকে যায় স্বরূপগঞ্জ অবধি আর কাজ হয়নি, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে করতে কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছে স্থানীয়রা যে স্বরূপগঞ্জ অবধি রেল হবে, স্বরূপগঞ্জ রেল বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা পার্বতী বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাই ট্রেন টা হোক, দশ বছর ধরে বন্ধ,আমাদের বলেছিলো ছোট ট্রেন থেকে বড় ট্রেন হবে, বড় ট্রেন তো হয়নি, ছোট ট্রেনের সব তুলে নিয়ে চলে গিয়েছে, আমরা না খেতে পেয়ে মরছি, আমরা চাই ট্রেন হোক, আমার স্বামী মারা গিয়েছে, ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে, আমার চায়ের দোকান আছে, ট্রেন হলে আমরা কিছু করে খেতে পারবো, আমরা এখন পুরো নিঃস্ব, আমাদের এখানে এখন কোনো কাজ নেই, মায়াপুর ফেরিঘাট ও ছিল কিন্ত ঘাটটা চলে গিয়েছে, ট্রেন হলে কিছু মানুষ করে খেতে পারবে, এরা বলছে ট্রেন আসবে কিন্ত দশ এগারো বছর কোনো খবর নেই “





