নবদ্বীপের রাসপুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে সমন্বয় সভা করল নবদ্বীপ থানা
দিবাকর দাস, হাকিকত নিউজ, নদিয়া: চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভূমি নবদ্বীপ শহর বা নবদ্বীপধামের অন্যতম উৎসব রাস আর এই নবদ্বীপের রাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সহ দূরদূরান্তের মানুষ ও বয়স্ক বৌষ্ণব ভক্তরা মেতে ওঠেন এই উৎসব নিয়ে নব্য ও প্রাচীন পুজোমণ্ডপগুলিতে ও মঠমন্দিরে। নবদ্বীপের রাসে দেখা যায় হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেব-দেবীর বৈচিত্রময় পুজো, দেখা যায় নবদ্বীপের পাড়ায় পাড়ায় ব্যাপক জনসমাগম, দেখা যায় বিশাল ঐতিহ্যপূর্ণ আড়ং, তাসা বাজনা সহকারে নবীনদের উন্মাদনা। কিন্তু এবছর করোনা আবহে কোভিড ১৯ সংক্রমণের প্রভাব যেন জনজীবনের উপর প্রভাব ফেলতে না পারে সেই কারণে দুর্গোৎসব পরবর্তী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কলকাতার উচ্চ আদালত বেশকিছু বিধি নিষেধ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে। মহামান্য আদালতের সেই নির্দেশকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে মান্যতা দিয়ে নদিয়ার নবদ্বীপের প্রধান উৎসব রাস উৎসব পালন করার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার নির্দেশনা ও নবদ্বীপ থানার উদ্যোগে নবদ্বীপ পৌরসভার রবীন্দ্র সংস্কৃতিক মঞ্চে রাসপুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে এক সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। এদিনের সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন নবদ্বীপের বিধায়ক পুন্ডরীকাক্ষ সাহা সহ নবদ্বীপ পৌরসভার প্রশাসক বিমান কৃষ্ণ সাহা, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ ঘোষ সহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) কৃশানু রায় ও নবদ্বীপের বিডিও বরুণাশীষ সরকার সহ নবদ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কল্লোল কুমার ঘোষ সহ কেন্দ্রীয় রাস কমিটির সদস্যরা সহ অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরের আধিকারিক ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের কনভেনারগন। এদিন সভায় নবদ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কল্লোল কুমার ঘোষ কলকাতা হাইকোর্টের পুজো সংক্রান্ত নির্দেশগুলি তুলে ধরেন, তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসন্ন রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে পূজা মণ্ডপগুলিকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিতকরণের ফলে মণ্ডপগুলি খোলামেলা তৈরি করার পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক ও স্যানিটাইজার রাখাতে হবে। এছাড়াও পূজা প্রাঙ্গণে বা তৎসংলগ্ন এলাকায় পূজা কমিটির সদস্য সহ দর্শনার্থীদের জমায়েত যেন না হয় তাও সুনিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি পুজো বারোয়ারী কমিটিকে। প্রতিবছরের ন্যায় এই বছর পূজো মণ্ডপে অঞ্জলি, পশুবলি, মানসিক পূজা দেওয়া যাবে না।মণ্ডপে মাইক, তাসা, বাজনা নিয়ে নাচা যাবে না। বিনা মাস্কে কোনো দর্শনার্থী মণ্ডপে বা তার আশপাশের যেন না আসতে পারেন তা সুনিশ্চিত করতে হবে পুজো কমিটি গুলিকে। পাশাপাশি করোনা বিপর্যয়ের কারণে এই বছর প্রতিমা নিয়ে কোনরকম আড়ং বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। প্রতিমা নিরঞ্জন এর জন্য হাতে গোনা ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য দূরত্ব বিধি সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত থাকতে পারবেন। উচ্চ আদালতের আদেশানুসারে মণ্ডপগুলোতে ডি.জে. বক্স ব্যবহার করা যাবে না। শব্দবিধি কে মান্যতা দিয়ে শুধুমাত্র সাউন্ড বক্স নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজানো যাবে।আদালতের নির্দেশ অবমাননা করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।




