বাংলাদেশে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু, নিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরাও
আমিনুল হক,হাকিকত নিউজ, ঢাকা: ভারত থেকে ৩ কোটি ডোজ করোনার টিকা আমদানি করছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারি এসে পৌছেছে। পাশাপাশি ভারতের তরফে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা। মোট ৭০ লাখ ডোজ টিকার মজুদ নিয়ে করোনা প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশে। রবিবার থেকে সারাদেশে ১০০৫টি কেন্দ্রে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে করোনা শনাক্তর হার তিনশোর নিচে নেমে এসেছে। ১২ হাজার ৪০৪টি নমুনা পরীক্ষা করে মোট ২৯২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এতে দৈনিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৫ শতাংশে, যা গত এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম। আর দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬২ জন হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে মোট ৮ হাজার ২০৫ জন। এমন মুহূর্তে করোনার টিকা গ্রহণ কার্যক্রমকে উৎসবই বলতে হবে। করোনার টিকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে অনেক উড়ো খবরের জন্ম হয়েছিলো। এদিন মহাখালি রাসেল গ্যাষ্ট্রোলিভার হাসপিটালে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মৎস্য ও পশু সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। বাংলাদেশে যেকোন ভালো আয়োজনই উৎসবমুখর। করোনার টিকার বেলায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তাই গণটিকা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে টিকার গ্রহণ করেছেন সাধারণ থেকে করে ডাক্তার-নার্স ও জনপ্রতিনিধিরা। টিকা গ্রহণে এখন কোন বার থাকছে না। যে কেউ নির্ধারিত সেন্টারে এসেই টিকা নিতে পারবেন। রাজশাহী: সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে প্রথম করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এদিন সকাল ১০টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কেন্দ্রে তিনি করোনার টিকা নেন। তিনি বলেন, এ ভ্যাকসিন আমার কাছে নিরাপদ মনে হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব করিনি। ভ্যাকসিন নেয়ার পর কোনোরকম অস্বাভাবিকও মনে হয়নি। তাই ভয় না পেয়ে সবাইকে ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানান এই জনপ্রতিনিধি। তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা তসলিমা খাতুন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা, জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনার টিকা গ্রহণ করেন। টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। প্রথম ধাপে রাজশাহীর ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সিলেট: সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসিসহ চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন। সিলেটে সম্মুখযোদ্ধাদের টিকাদানের মধ্য দিয়ে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্মুখসারির যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ টিকা নেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক শিশির চক্রবর্তী, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব, সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল, সিলেট ওসমানী মেডিকেলের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. শাহবুদ্দিন, ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান রোমান ও হাসপাতালের সেবিকা রাখি রানী সাহাসহ অনেকে। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, সিলেট বিভাগে এক মাসে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৮৮ জনকে করোনা ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে এক লাখ ১৫ হাজার ৪৭টি ভ্যাকসিনের চাহিদা ছাড়াও সুনামগঞ্জে ৯০ হাজার, হবিগঞ্জে ৩৫ হাজার ৪১টি এবং মৌলভীবাজারে ২৮ হাজার টিকার চাহিদা রয়েছে। বরিশাল: প্রথম ভ্যাকসিন শরীরে প্রয়োগ করে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রত্না আমিন বরিশাল বিভাগের এবং শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বরিশাল মহানগরীতে মহামারি করোনার টিকা দেয়ার কার্যক্রমের সূচনা করেছেন। বরিশালের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোববার থেকে টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দিনাজপুর : দিনাজপুর জেলায় প্রথম দিনে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ৭১৭ জন। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে সর্বপ্রথম ভ্যাকসিন নিয়ে জেলা পর্যায়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, প্রথম দিন রোববার জেলার ১৪টি কেন্দ্রে ৭১৭ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করে। এর মধ্যে ৫৭৪ জন পুরুষ এবং ১৪৩ জন মহিলা। তিনি জানান, ১৪টি কেন্দ্রে মোট ৩৮টি টিম কাজ করে। প্রতিটি টিমে ২ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ প্রশিক্ষিত মোট ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী ভ্যাকসিন প্রয়োগের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। প্রথমে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসানকে দেয়া হয় কোভিড-১৯ এর টিকা। পরে টিকা নেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হিরোক চৌধুরী। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে সদর হাসপাতালে ৮টি, বিজিবি হাসপাতাল ও পুলিশ হাসপাতালে একটি করে এবং উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৩টি করে কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলে। এসব কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের টিকাদানে কাজ করে স্বাস্থ্য বিভাগের ৫০টি দল। পাইকগাছা (খুলনা) : খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকালে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দীকি ও উপজেলা স্বাস্থ ও প.প. কর্মকর্তা নীতিশ চন্দ্র গোলদার। এ সময় আরও টিকা নেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেহানা ও রুনু। চাটখিল (নোয়াখালী) : নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহিম চাটখিল সরকারি হাসপাতালে প্রথম করোনার টিকা নিয়ে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্সসহ ২০ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম করোনার টিকা গ্রহণ করেন মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবীর। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব জানান. পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২০ জনকে রোববার টিকা প্রদান করা হয়। টিকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন। বক্তব্য রাখেন মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবীর, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মদন মোহন ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মন্ডল প্রমুখ। ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট): উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, মুক্তিযোদ্ধাদের করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. লায়লা আঞ্জুমান, ডা. জোবায়ের আল ফয়সাল, ডা. আনোয়ার গালিব, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজাহার আলী, মোফাজ্জল হোসেন, ক্ষেতলাল ডায়াবেটিক সমিতির কো-অর্ডিনেটর আজিজুল হক প্রমুখ।






