ভারতের দেয়া ২০ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ
আমিনুল হক,হাকিকত নিউজ, ঢাকা : ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানির জন্য এরই মধ্যে ৬০০ কোটি পরিশোধও করে দিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি সপ্তাহেই টিকার প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌছানোর কথা রয়েছে। তবে, তার আগেই বাংলাদেশকে উপহার দেওয়া ভারত সরকারের ২০ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। যা বুধবার পৌছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। ভারত সরকারের তরফে বাংলাদেশ সরকারকে টিকা উপহারের একটি চিঠি দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডিজি হেলথ। এর আগে সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘মিট দ্যা রিপোর্টার্স’ বিষয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই অর্থাৎ ২৫ বা ২৬ জানুয়ারি টিকার প্রথম চালান বাংলাদেশে আসবে। তবে, তার আগেই ভারত সরকারের উপহার হিসেবে দেওয়া টিকা মিলবে আশ্বস্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যা ১৮ বছরের নিচে কাউকে দেওয়া হবে না। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, চিঠিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বুধবার ২০ টিকা আসার কথা। এরই মধ্যে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহেই ভারত থেকে করোনা টিকার প্রথম চালান পাচ্ছে বাংলাদেশ। মানবদেহে টিকা প্রয়োগের জন্য ৪২ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে টিকা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় হাত লাগিয়ে সেরাম। প্রথম চালানে যে টিকা পাঠানোনোর কথা রয়েছে, তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভারতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বাকী প্রক্রিয়া শেষে ইন্ডিয়া কাস্টমসে যাবে কাগজপত্র। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’অনুষ্ঠানে স্বস্তির বার্তা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সিরামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ধাপের টিকার চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। টিকা আনতে প্রয়োজনে বিশেষ উড়ানের ব্যবস্থা করবে সরকার। দেশে ভ্যাকসিন প্রবেশের এক সপ্তাহের মধ্যেই তার প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এজন্য ৪২ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা জেলায় ৩০০টি চিকিৎসাকেন্দ্রে টিকাদান কেন্দ্র তৈরি করা হবে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, চলতি মাসের ২৫ বা ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে করোনার টিকার প্রথম চালার পাবার কথা রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তারা। টিকার প্রথম চালান হাতে পেলে তা থেকে বাংলাদেশে রিপোর্টারদের অন্যতম সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যরা ভ্যাকসিন পাবেন। পর্যায়ক্রমে সকল সাংবাদিককে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বেসরকারিভাবেও টিকা আমদানি ও প্রয়োগের অনুমোদনও দেবে সরকার। তার জন্য একটি নীতিমালাও এরই মধ্যে করা হরেয় গেছে। টিকার মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে যাওয়ার আভাস মিলছে পরিসংখ্যানে। ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।





