স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শহীদবেধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজন সম্পন্ন
আমিনুল হক, হাকিকত নিউজ, ঢাকা: কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের তিনদিকের রাস্তায় আলপনা ও দেওয়াল লিখন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। যে কোন আন্দোলন, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে চারুকলার নাম। যে কোন শুভ কাজের সঙ্গী তারা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দক্ষিণপাশের জরুরী বিভাগের পাশের রাস্তায় বেরুতেই ঘাতক পাকিস্তানি সেনাদের রাইফেল গর্জে ওঠেছিল। সেসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সালাম, বরকত, রফিক, জাব্বাররা। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য রাজপথে প্রাণ দেয়ার ইতিহাস পৃথিবীর আর কোন দেশে রয়েছে জানা নেই। ৫২’র ভাষা আন্দোলন সময়ের পিঠ বেয়ে আজও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে ভাষার আবেগ ও দরদ এতোটুকু কমেনি বরং বেড়েছে। এখানে ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে অমর ২ শে বই মেলা বিশ্বে উদাহরন সৃষ্টি করেছে। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশ্বের নানা প্রান্তে ভাষাদিবস পালিত হয়ে আসছে। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ বেধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এবারে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন না। মূল বেদীর ঠিক বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবনের দেওয়ালে লাল রং-এ লেখা হয়েছে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, শামসুর রহমান, আবুল ফজল, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, জসীম উদ্দীন, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, মুনীর চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, ধীজেন্দ্রলাল রায়, আবুল মনসুর আহমদ, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, অতুলপ্রাসাদ সেন, মাইকেল মধুসূদন দত্তসহ বিখ্যাত মনিষীদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন উক্তি। সাভার থেকে স্ত্রীক এসেছেন মুমিনুল। একটি রপ্তানি কারখানায় কাজ করেন। জানালেন, এই প্রথম এসেছেন। রবিবার ভীড় বেশি থাকবে। তাই আজই এসেছেন। ঢাকার জুড়াইন থেকে এসেছেন সন্ধ্যা। সঙ্গে মাও রয়েছে। কলেজ পড়ুয়া সন্ধ্যা ভাষা দিবস নিয়ে বেশ গর্বিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫জন করে শহীদ মিনারে প্রবেশের নির্দেশনা জারি রয়েছে। করোনার মধ্যেও মানুষের উৎসাহে তেমন একটা ভাটা পড়েছে মনে হয়নি। তবে, ফিবারের মতো সেই কোলাহল নেই। শনিবার শহীদ মিনার এলাকা ও আশপাশের সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবারে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শ্রদ্ধা জানাতে সকল আয়োজন সম্পন্ন। বাঙালি জাতির গৌরবের ইতিহাসে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। ইংরেজদের দুরভিসন্ধিতে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর পূর্ব বাংলার ওপর পাকিস্তানিরা অন্যায়ভাবে অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়। সর্বপ্রথম তারা বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘুদের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার হীন চক্রান্ত শুরু করে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ১৯৫২ সালে আন্দোলন তীব্র হয়। সেই আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ যেমন ছিল, তেমনি রক্ত ও প্রাণ দিতে হয়েছে অনেককে। প্রতিবারের মতো একুশে ফেব্রুয়ারিতে সেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। তবে এবার বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম পালন করা হবে। বিকাল নাগাদ শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আলপনা আঁকার কাজ শেষ। শহীদ মিনারের তিনদিকে তিনটি ফায়ারসার্ভিসের গাড়ি। সিসি ক্যামেরা, ওয়াস টাওয়ার ইত্যাদি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। বরাবরের মতো শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। র্যাব ও ডিএমপির তরফে বসানো হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে। গোটা এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে জনসাধারণকে সতর্ক করতে লাগানো হয়েছে ডিজিটাল সাইনবোর্ড। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ডান পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী মোতাহার হোসেন ভবন সংলগ্ন মাঠে র্যাব, ডিএমপি ও ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে।






