বাংলাদেশ ভারত সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে প্রতারণা গ্রেফতার ১৫ নাইজেরিয়ান
আমিনুল হক, হাকীকত নিউজ, ঢাকা : কখনও আমেরিকান নারী সেনা কর্মকর্তা, কখনও বা সুন্দরী নারীর ছদ্মবেশে ভুয়া ফেসবুক আইডি বা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতই ছিল প্রতারক চক্রটির কাজ। নাইজেরিয়ান নাগরিকরা বাংলাদেশে নানা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। ভিসার মেয়াদ শেষ হবার পরও তারা কৌশলে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং জালিয়াতি করছে। এটিএম কার্ড থেকে শুরু করে নানা প্রকারের জালিয়াতি যেন তাদের হাতের মুঠোয়। ইতিপূর্বে এমনি বহু নাইজেরিয়ান প্রতারকে গ্রেফতার করেছে সিআইড। সর্বশেষে চক্রটির ১৫ সদস্যকে জালে আটকালো পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। শুক্রবার সিআইডি সরদ দপ্তরে এক সাংবাদিক বৈঠকে ১৫ সদস্যের প্রতারক নাইজেরিয়ানকে গ্রেফতার এবং এসংক্রান্ত বিশদ তুলে ধরেন সিআইডির অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ রেজাউল হায়দার। জানালেন, বৃহস্পতিবার ঢাকার পল্লবী এলাকা থেকে ১৫ নাইজেরীয়কে গ্রেফতার করেন তারা। যারা নানা ছলাকলার আশ্রয়ে প্রতারণা করে আসছিল। প্রতারকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ১৫ নাইজেরীয় নাগরিক নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করছেন। অপরদিকে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি বলছে, অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেন। তারা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তাদের কারো ভিসার মেয়াদ নেই। বাংলাদেশে অবস্থান করে ডলার বা গিফট দেবার নাম করে মানুষকে বোকা বানিয়ে তারা প্রতারণা করে আসছিলেন। গ্রেফতার নাইজেরীয়দের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি ল্যাপটপ, ২২টি মোবাইল ও ৫টি হিসাবের ডায়েরি জব্দ করার কথা জানিয়েছেন ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার। প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুয়া ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ছবি পাঠিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর মেসেঞ্জারে জানান, তিনি ইয়েমেন, আফগানিস্তান বা সিরিয়াতে অবস্থান করছেন। তার কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলার রয়েছে, কিন্তু সে দেশে যুদ্ধ চলমান থাকায় যেকোন সময় তার এই সম্পদ নষ্ট হতে পারে। তাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে এসব ডলার বা সম্পদ তিনি উপহার দিতে চান। যদি তিনি বেঁচে থাকেন পরে তা ফেরত নেবেন। এমন প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে বন্ধুর ঠিকানাসহ মোবাইল নম্বর নিয়ে নেন। পরে ওই ঠিকানায় বন্ধুদের মেসেঞ্জারে/হোয়াটসঅ্যাপে গিফট প্যাকেটের ছবি এবং একটি এয়ারলাইন্সে গিফট প্যাকেট বুকিংয়ের রশিদের কপি পাঠান। এর দুই দিন পর ভুক্তভোগীকে ভিডিও কলে এয়ারপোর্ট কাস্টমস অফিসে থাকা গিফট প্যাকেট দেখান এবং কাষ্টমসের ভ্যাট বাবদ বিভিন্ন ধাপে টাকা নিতে থাকেন। অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার আরও জানান, ফরহাদ হোসেন তালুকদার নামে এক সরকারি চাকরিজীবী এভাবেই এই চক্রের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার কাছ থেকে বিভিন্ন একাউন্টে সোয়া ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরে আর টাকা না পাঠিয়ে সিআইডিকে বিষয়টি জানান। শুধু ফরহাদ নন, অনেক লোকের কাছ থেকে চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগী ফরহাদকে কাস্টমস কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে কল করলে সিআইডির প্রতারকদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে। যে মুঠোফোন দিয়ে কল করা হয়েছিল, তাও জব্দ করেন। সিআইডি ২ জুলাই ও ২১ জুলাই প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে।পরবর্তীতে দুই প্রতারকের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত চক্রের অর্থ লেনদেন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম মিলে যাওয়ায় তাদের প্রতারণা প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে থাকলেও মূলত তিনটি দল একই চক্রের। তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।






