নদিয়ায় ভক্তবৃন্দদের মনস্কামনা মাটি মানতে, ঢেলাই চন্ডীদেবীর অধিষ্ঠান মাটির পাহাড়ে
দিবাকর দাস,হাকিকত নিউজ, নদিয়া : সে বেশ কিছু বছর আগেকার কথা! তিরিশ-চল্লিশ বছর আগে তো হবেই। মাঠে আমন ধান, রোপণের পর সবুজ সতেজ সারা মাঠ জুড়ে! কিন্তু ফুল বা ফলের দেখা পেল না চাষীরা! এমনকি চিটে ধানও নয়! শুধু একজনের নয় নদিয়ার কৃষ্ণনগর এক নম্বর ব্লকের যাত্রাপুর গ্রামের শতাধিক কৃষকের এই করুণ অবস্থা হয়েছিলো, কৃষি বিজ্ঞানীদের কাছেও এই কারণ সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলেই জানালেন এলাকার প্রবীণ কৃষকরা। এরই মধ্যে পাশের আদিবাসী গ্রামে মা মনসার শরণাপন্ন হয়ে কৃষকরা সুফল পায়। তারপরের সেই বছর থেকে চাষের জমির মাঝেই আগ্রহয়ন মাসে শনি মঙ্গলবারে মনসা দেবীর পূজা দিয়ে আসছেন কৃষকরা। তবে চাষের জমিতে, মাটির চাই অর্থাৎ ঢিলা জমিতে পূজিত হওয়ার কারণেই স্থানীয় নামকরণ হয়েছে ঢেলাই চন্ডী। পুজো উপলক্ষে হাজারে হাজারে ভক্ত বৃন্দ দের মানত করা মাটি মাথায় করে, নিয়ে গিয়ে অর্পণ করেন মায়ের পদতলে। কয়েক বছরের মধ্যেই মানত করা মাটি জমে মাটির পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। পুজো ঘিরে অসংখ্য মানুষের সমাগমে বসে মেলা, হয় কবিগান, হয় তরজা ঝাপান, বাউল গানের শিল্পীরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন এত ভক্তবৃন্দদের মাঝে নাম গানের মাহাত্ম্য পৌঁছে দিতে এবং পরবর্তীকালে নিজেদের রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করতেও। ভক্তবৃন্দদের দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা পালা করে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। প্রায় ত্রিশ চল্লিশটা উঁনুন ধরিয়ে, সারাদিন ধরে খিচুড়ি ভোগ প্রসাদ রান্না, এবং তা পরিবেশন করার জন্য মাটি বহন করা ট্রাক্টরকে পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কৃষি বিলের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক তরজা বোঝেন না তারা! তবে সংঘ বদ্ধ জীবন বিশ্বাস এবং আন্তরিকতায় ভরা কৃষকরা ধনী-দরিদ্র জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে চাষের মাঠে বসে একসাথে এক পাতে খাওয়ার নিদর্শন সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে।





