নবদ্বীপে নাবালিকার বিয়ে রুখল পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন
দিবাকর দাস, হাকিকত নিউজ, নদিয়া: নবদ্বীপে এক নাবালিকার বিয়ে রুখে দিল পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন। অন্যদিকে নাবালিকার বিয়ে বন্ধ হওয়ায় খুশি আপামর গ্রামবাসী। ঘটনাটি নবদ্বীপ ব্লকের মাঝদিয়া পানশিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রাহ্মমনপুরা গ্রামে। সূত্রের খবর নবদ্বীপ ব্লকের মাঝদিয়া পানশিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রাহ্মমনপুরা গ্রামের বাসিন্দা এক বছর সতেরোর নাবালিকার বিয়ে ঠিক হয়েছিল প্রতিবেশী প্রসেনজিৎ মন্ডল নামক এক যুবকের সঙ্গে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই গ্রামজুড়ে আলোড়ন পরে যায়। জানতে পেরে স্থানীয় এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নাবালিকার বিয়ে এই বয়সে দেওয়াটা বেআইনি বলে দুই পরিবারকে সতর্কও করে দেয় বলে জানতে পারা যায়। যদিও ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর কথায় কান না দিয়েই বিয়ের ব্যবস্থা করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কানাঘুষোয় বিয়ে আপাতত বন্ধ রাখে দুটি পরিবার। অন্যদিকে বিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুষড়ে পরে নাবালিকা ও ওই যুবক। তারপর দুই পরিবার কে অন্ধকারে রেখে বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি মন্দিরে গোপনে বিয়ে করে নেয় প্রসেনজিৎ মন্ডল নামক ওই যুবক। পরে নাবালিকার বিয়ের খবর ব্লক প্রশাসনের কাছে পৌঁছালে শুক্রবার সকালে নবদ্বীপ থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাহ্মমনপুরা গ্রামে পৌঁছায় ব্লক ওয়েলফেয়ার আধিকারিক। দুটি পরিবারকে ডেকে নাবালিকা বিয়ের কুফল সম্বন্ধে বোঝান হয়। শেষমেষ দুটি পরিবার বিয়ে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মুচলেকা লিখিয়ে দুটি পরিবার সহ গ্রামবাসীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এবিষয়ে নাবালিকার মা বলেন, “আমরা জানি কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়াটা আইনত দণ্ডনীয়। আমাদের ভুল হয় গিয়েছে”। পাশাপাশি তিনি এও জানান, “আজকাল কার ছেলে মেয়েদের বোঝান মুশকিল। ওরা নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে”। তিনি এও বলেন, “যাই হোক মেয়ের বিয়ে আঠারো বছরের আগে আর দিচ্ছিনা”। ছেলের মাও একই মত পোষণ করেন।




