শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন
আমিনুল হক,হাকিকত নিউজ, ঢাকা : ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয়ে থাকে। পাকিস্তানের করাগারের বন্দীদশা থেকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্ত হয়ে এদিনে পৌছুন লন্ডন। সেখান থেকে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ব্রিটেন বিমান বাহিনীর একটি বিমানে ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন। লন্ডন এবং ভারত হয়ে এদিন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন শেখ মুজিব। এদিনটি বাঙালির নতুন ইতিহাস লেখার দিন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন ঐতিহাসিক রমনা রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তার এই ঐতিহাসিক ভাষণের পরইফুঁসে ওঠে পাকিস্তানি শাসক। ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে য়ায়। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ীযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৭১’র সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে লালসবুজে খচিত পতাকা অর্জন করে বাংলাদেশ। স্বদেশের পথে ১০ জানুয়ারি সকালে নামেন দিল্লীতে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সেদেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। বিকালে এসে পৌছোন ঢাকার তেজগাও বিমান বন্দরে। সেখান থেকে রমনা রেসকোর্স। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে। লন্ডন এবং ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বদেশে ফেরেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু। সেদিন পুরাতন বিমানবন্দর তেজগাও থেকে রমনার রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত ছিলো জনস্রোত। সেই স্রোতস্বিণীতে ভাসতে ভাসতে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাতিক ভাষণের স্থানে পৌছেন এবং কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বাঙালি জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সেদিন তিনি বলেছিলেন, বাঙলার মানুষকে তিনি সোনার বাংলা উপহার দিতে চান। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জাতির পিতার অবদান ছিল অতুলনীয়। ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষার দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বসহ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় সবই হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বে।





