ঢাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় পর্বতারোহীর মৃত্যু
আমিনুল হক, হাকীকত নিউজ, ঢাকা : ঢাকার শেরেবাংলা এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডে সাইক্লিং করার সময় প্রাইভেটকার চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন পর্ববতারোহী রেশমা নাহার রত্না। একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পথচারিরা তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পেশাগত জীবনে স্কুল শিক্ষকতার পাশাপাশি পর্বতারোহণসহ বিভিন্ন এডভেঞ্চার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে ভারতের নেহেরু মাউন্টিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর পর্বতারোহণ কোর্স সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশের কেওক্রাডং থেকে শুরু করে আফ্রিকার কিলিমানজারো এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কেনিয়াসহ দুটি ৬ হাজার মিটারের পর্বতারোহণে সফল হন। পর্ববতারোহনে সফল সফলেও হেরে গেছে রাজপথে। বাংলাদেশে সরকারী ছুটির দিন শুক্রবার সকালে হাতিরঝিলে বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ানোর পর সাইকেল চালিয়ে মিরপুরের ফেরার পথে গাড়ি চাপায় প্রাণ হারায় এই ক্রীড়বিদ ও শিক্ষক। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেওক্রাডং জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রত্নার পাহাড় জয়ের অভিযান। এ পর্বতারোহী ২০১৯ সালে ২৪ আগস্ট ভারতের লাদাখে অবস্থিত স্টক কাঙ্গরি পর্বত (৬১৫৩ মিটার) এবং ৩০ আগস্ট কাং ইয়াতসে-২ পর্বত (৬২৫০ মিটার) সফলভাবে আরোহণ করেন। এরপর ২০১৮ সালে আফ্রিকার উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কিলিমানজারো ও দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কেনিয়া অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। ভারত থেকে পর্বতারোহণ বিষয়ে বেসিক এবং অ্যাডভান্স মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স শেষ করার পর মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে আরোহনের স্বপ্ন ছিল তার। দেশে-বিদেশে বেশ কয়েকবার হাফ ম্যারাথনেও অংশ নিয়েছেন রত্না। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন বীরপ্রতিক। তাদের দেশের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানা এলাকায়। রত্না ঢাকার একটি সরকারী প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। মাত্র মাসখানেক হলো তার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি বাসা মিরপুরের পাইকপাড়া সরকারী কোয়াটারে ওঠেছিলেন।





