গোপাল কৃষ্ণ গোখেল এর প্রবাদ “What Bengal thinks today India thinks tomorrow” আজকের সন্দর্পে এটি কি প্রহসনে পরিণত হয়েছে ?
নন্দ দুলাল ভট্টাচার্য, হাকিকত নিউজ, কলকাতা : একশত বছর আগে, গোপাল কৃষ্ণ গোখেল একজন বিশিষ্ট ভারতীয় নেতা বলেছিলেন, “বাংলা যা ভাবছে আজ ভারত ভাববে আগামীকাল”(What Bengal thinks’ today India thinks tomorrow) ছিল একটি সঠিক বর্ণনা। বিজ্ঞান, সাহিত্য, দেশপ্রেম থেকে শিল্পায়ন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ছিল অগ্রগণ্য । বাংলার সন্তান, যেমন নেতাজী সুভাষ বসু, ঋষি অরবিন্দ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, রাস বিহারী বসু, মাস্টারদা সূর্য সেন এবং সেই যুগের আরও অনেক বিপ্লবী, সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়া বিপ্লবী আগুনের নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বৃটিশরা ভারত ত্যাগ করে। কাজী নজরুলের বিপ্লবী গান, বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম এবং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জন গণ মন শুধু বাংলার নয়, সমগ্র ভারতের গান হয়ে ওঠে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, বাংলা কীভাবে তার গৌরবময় অতীত থেকে ধীরে ধীরে মধ্যমতার দিকে এগিয়ে গেল এবং কীভাবে তা ঘটল? আর এই অবক্ষয়ের জন্য দায়ী কে? বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট দেখে নেওয়া যাক। যদি আমরা ১৯৪৭ (1947) থেকে বিস্তারিত ভাবে দেখি তাহলে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ২১ (21) বছর এবং বামফ্রন্ট ৩৪ (34) বছর এবং তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ (2011) থেকে এখন পর্যন্ত ১১(11) বছর ক্ষমতায় রয়েছে। রাজনীতি ও সমাজের মধ্যে একটি অন্যোন্যজীবিতা (symbiotic) সম্পর্ক রয়েছে এবং একে অপরের পরিপূরক। একটি সিভিল সোসাইটির নিজস্ব স্টাইল রয়েছে এবং এটি প্রতিটি রাজ্যে, প্রদেশের সাথে তার আর্থ-সামাজিক পরিবেশের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হয়। এবং কোথাও কোথাও এই রাজনৈতিক দলগুলির কাজ করার ধরন (ক্ষমতায় থাকার জন্য ) বঙ্গের সুশীল সমাজের দৈনন্দিন চলার নিজস্ব শৈলী কে নিঃসন্দেহে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আসুন একটু বোঝার চেষ্টা করি রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে বাংলার সুশীল সমাজ পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াটিকে উল্টে দিয়ে মধ্যমতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বাঙালি সমাজ কখনো অর্থকে প্রাধান্য দেয়নি, বরং শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, কে বেশি স্বীকৃতি দিয়েছে। বাঙালি সমাজ একজন মানুষকে শিক্ষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতির ভিত্তিতে বিচার করেছে, তার অর্থের ভিত্তিতে নয়। এ কারণেই বাংলা ভারতকে দিয়েছে সবচেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক দলের আধিপত্যকে এগিয়ে নেওয়ার দৌড়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সমগ্র বাংলা সমাজের কর্মশৈলীকে নাড়া দিয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য , এমনকি প্রশাসনিক ভূমিকার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রতিভা কে উপেক্ষা করা হয়েছিল শুদুমাত্র দলের প্রতি আনুগত্য প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল। যার কারণে প্রতিভা কে পেছনে ফেলে মধ্যমতা এগিয়ে গেল। বাঙালি ভদ্রলোক ও বাঙালিয়ানার সংস্কৃতি বোধহয় অনেক পিছিয়ে গেছে। ২০১১ (2011) সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতার পালাবদলের প্রায় ১১ ( 11) বছর হয়ে গেছে, কিন্তু বাংলা কি এই মধ্যমতা অতিক্রম করতে পারবে? অথবা “হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো” একটা প্রবাদই থেকে যাবে।





