নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ
আমিনুল হক, হাকিকত নিউজ, ঢাকা : আগামী ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ প্রতীক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেন। দিল্লিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি একথা বলেন। বৈঠকে দিল্লিতে ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন মাসুদ বিন মোমেন। বৈঠকে তারা দু’দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানে জোর দেন। বৈঠকে করোনার টিকা দ্রুত পাওয়ায় ড. জয়শঙ্করকে ধন্যবাদ জানান মাসুদ বিন মোমেন। একই সঙ্গে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একযোগে পালনের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেন চারদিনের বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি সফরে পৌছেন। আসছে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর চূড়ান্ত করা এবারের দিল্লি সফরে প্রাধান্য পাচ্ছে। এছাড়া ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লীতে শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠক। তবে, সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে জলবন্টন, সীমান্ত হত্যা, যোগাযোগ ও বাণিজ্যর সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো। পাশাপাশি দু’দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকে অংশ নিতে বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশী প্রতিনিধি দলটি নয়াদিল্লী পৌছেছেন। এফওসি বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন হার্ষবর্ধন শ্রিংলা। বৈঠককালে উভয় বিদেশ সচিব দু’দেশের আসন্ন প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের এজেন্ডা নির্ধারণে আলোচনা করবেন। ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত ঢাকা সফরকালে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মার্চ মাসে বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এর আগে ঢাকায় নয়াদিল্লীর বৈঠক নিয়ে বিদেশ সচিব মাসুদ মোমেন তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সকল ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হবে। যৌথ ঘোষণাও অনুসরণ করব আমরা। যা গত মাসে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে ঘোষিত হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের বিষয়েও আলোচনা হবে। বাংলাদেশ এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবে। জলবন্টন ইস্যুর বিষয়ে বিদেশ সচিব বলেন, বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক খবর শুনতে চায়। তিস্তা ইস্যু’র সম্পর্কে এখন ভারতই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা অবশ্যই এই ইস্যুটিও সমাধান চাই। আমরা জানি যদিও ভারতের বর্তমান সরকার ও রাজ্য সরকার এখনো তিস্তার ব্যাপারে সম্পূর্ণ মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। অবশ্য গত ১৭ ডিসেম্বর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা পানি বন্টন নিয়ে শিগগিরই একটি অন্তবর্তী চুক্তিতে স্বাক্ষরের উপর জোর দেন। ২০১১ সালে মোদি এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ও অব্যহত প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করার পর এ ব্যাপারে উভয় দেশ সরকার মতৈক্যে পৌঁছে। বৈঠকে উভয় প্রধানমন্ত্রী ছয়টি যৌথ নদীÑমানু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমারের জলবন্টনের ওপর অন্তবর্তী চুক্তির কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। বিদেশ সচিব বলেন, এফওসি’র পর বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হবে। বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন (এফওসি)’র আসন্ন সচিব পর্যায়ের বৈঠক ও ঢাকায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়েও আলোচনা হবে। ৩০ জানুয়ারি ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস ট্রেইনিং একাডেমিতে বক্তব্য রাখবেন এবং দিল্লী ভিত্তিক রাষ্ট্রদূতগণের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের বিদেশ সচিব। রবিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।






