বাংলাদেশ-ভারতের বিদেশ সচিব পর্যায়ে সফল বৈঠক সম্পর্কোন্নয়ন চায় দিল্লী

আমিনুল হক, হাকীকত নিউজ, ঢাকা : সম্প্রতি সীমান্তে হত্যা বেড়ে গেছে। এ নিয়ে ভারতের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে বাংলাদেশ। খুব শিগগির দুই দেশে সীমান্তরক্ষীর মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতকে সহয়তা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে যে আপত্তিকর খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এসব বন্ধে দুই দেশের বিদশ সচিব একমত হয়েছেন। দিল্লীর বিশেষ বার্তা সম্পর্কে বাংলাদেশের বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দিল্লির বিশেষ বার্তা হচ্ছে, আসলে করোনার কারণে কোনো দেশের সঙ্গেই কোনো দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। সেটির এক ব্রেকথো হিসেবে দেখছি। এ করোনাকালীন শ্রিংলার প্রথম সফর। তিনি আমাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একদিকে বাংলাদেশ স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী, অপর দিকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর। এই দুটোই উভয় দেশ যৌথভাবে পালন করবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশন মুজিববর্ষ পালন অনুষ্ঠানে ভারত সহযোগিতা করবে। বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে দু’দেশের বিদেশ সচিবের বৈঠক শেষে ব্রিফ করেন বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেন। বাংলাদেশের বিদেশসচিব জানান, ভ্যাকসিন পাবার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে। আগামী বছর ভারত নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রেজুলেশন পাশ করতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে ভারত বলে আশ্বাস দিয়েছে। অপর দিকে বৈঠক শেষ ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, অত্যন্ত সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। কোভিভ পরবর্তী বিশ্বে একে অপরকে সাহায্য করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা নিয়ে এসেছিলাম। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের কোন অবনতি হয়নি বলে আমি মনে করি। সামনে সোনালী অধ্যায় আসছে। ভারত কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে। এই ভ্যাকসিন তৈরি হলে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফররত ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। মাসুদ বিন মোমেন বলেন, করোনার টিকা ভারত তৈরি করতে পারলে সেটা শুধু ভারতের জন্যই নয়, বাংলাদেশেও দেয়া হবে। বাংলাদেশেও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ কোনো কাজ করার সুযোগ থাকলে সেটা করা হতে পারে। তিনি বলেন, ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। অস্থায়ী সদস্য হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করবে ভারত। মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন শ্রিংলা। এদিন বৈঠকের পরই দিল্লীর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে। ভারতের বিদেশ সচিব হওয়ার পর ঢাকায় এটি তার দ্বিতীয় সফর। এর আগে চলতি বছর ২ মার্চ দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি।






