ভারতে ১০ বছর কারাভোগ করা সন্ত্রাসী মামুন ঢাকায় গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক,হাকিকত নিউজ, ঢাকা: শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি তিনি। নাম মফিজুর রহমান মামুন। চাঁদাবাজি, খুন, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে ঢাকার পল্লবী থানায় ২৭টি মামলাই নয়, ঝুলছে ১৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানার সঙ্গে আর দুটি সাজার পরোয়ানাও। সোমবার ভোররাত। রাজধানীর পল্লবীর কর্মজীবী মানুষ বিছানা ছাড়তে শুরু করেছে। পল্লবীর বাইতুন নুর জামে মসজিদ এলাকায় রাত থেকেই ওঁৎ পেতে ছিলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের বিশেষ টিম। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মামুন এক সময়ে মিরপুরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০০১ সালে কিছুদিন কারাভোগের পর ২০০৪ সালে পালিয়ে ভারতে চলে যায়। পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০০৮ সালে ভারতে গ্রেফতার হয় এবং ১০ বছর সাজা ভোগ করে। কারাভোগ শেষে ভারতে বসেই মামুন বিদেশে অবস্থানরত মিরপুরের অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহিম ও সাহাদাত বাহিনীর প্রধান সাহাদাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমম্বয়ের মাধ্যমে ঢাকার মিরপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপর হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক বার্তায় বলেছে, রাষ্ট্রবিরোধী একটি সন্ত্রাসী চক্র টার্গেট কিলিং ও ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে চোরাবাজার থেকে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে মর্মে তথ্য পায় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে পল্লবীর বাইতুন নুর জামে মসজিদের পাশের রাস্তা থেকে এ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য মফিজুর রহমান মামুনকে আটক করা হয়। মামুন বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করতো। অপরাধ জগতে তার অবস্থানকে সুসংহত করতে সম্প্রতি সে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মফিজুর রহমান মামুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।





