তৃতীয় দফায় আরও ১৭৭৬ রোহিঙ্গা পৌঁছাল ভাসানচরে
আমিনুল হক, হাকিকত নিউজ, ঢাকা : কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তৃতীয় দফায় আরও ১৭৭৬ জন রোহিঙ্গা পৌঁছোলো ভাসানচরে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্বাবধানে শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে ৫টি জাহাজে করে রোহিঙ্গা দলটিকে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হয়। দলটিতে রয়েছে, ৪০৪ জন পুরুষ, ৫১০ জন মহিলা এবং ৮৬২টি শিশু। এর আগে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৩৮টি বাসে করে তাদেরকে চট্টগ্রাম বোটক্লাবে নেয়া হয়। রাতে তাদেরকে চট্টগ্রামের বিএফ শাহীন কলেজ ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজ তাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা করে। ভাসানচরে নৌবাহিনীর দায়িত্বরত লে. কর্নেল মামুন জানান, তৃতীয় ধাপে ভাসানচরে পৌঁছানো রোহিঙ্গাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে গাড়িতে করে ওয়ারহাউজ-১ এ সমাবেত করে সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করা হয়। এরপর তাদেরকে ভাসানচরের ২৩, ২৪ এবং ২৫ নং ক্লাস্টারে স্থানান্তর করা হয়। তিনি আরও জানান, আগত রোহিঙ্গাদের ট্রিপল আরআরআরসির মাধ্যমে তিনদিনের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। পরে তারা রেশন পাবে। নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে পৌঁছে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের ৭, ৮, ৯, ১০ নম্বর ক্লাস্টারে তাদেরকে রাখ এবং সপ্তাহ রান্না করে তাদেরকে এক খাওয়ানো হয়। প্রথম ধাপে ভাসানচরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ছিল ৩৬৮ জন পুরুষ, ৪৬৪ জন নারী ও ৮১০ জন শিশু। এরপর গত ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ১ হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছে। উল্লেখ্য, মায়ানমারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গণহত্যার মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৮ লাখ বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকে রয়েছে আরও প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। চুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ফেরাতে বলে আসছে।






