“বিজেপি একটি জাঙ্ক পার্টিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি করলে সাতখুন মাফ” বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়
দিবাকর দাস, হাকিকত নিউজ, নদিয়া : সোমবার নদিয়ার রানাঘাট ছাতিমতলা ময়দানে এক জনসভায় যোগদান করতে এসে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করা নেতা-মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে নাম না করে তীব্র ভাষাতেই বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ ও কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি কালো টাকা সাদা করতে চাও তবে বিজেপি তে যাও, সঞ্চিত টাকা অক্ষত রেখে যদি দুনম্বরী করতে চাও তবে বিজেপিতে যাও, কয়েকজন ব্যক্তি, যারা ইতিমধ্যেই অনেক টাকা রোজগার করেছেন, তাদেরকে সিবিআই, ইডির ভয় দেখিয়ে নিজেদের দলে যোগদান করতে বাধ্য করেছে বিজেপি।বিজেপির এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাগজ তৈরি করে তাদেরকে প্রতিনিয়ত ভীতগ্রস্ত করে রাখছে এই রাজনৈতিক দলটি। ভবিষ্যতে আদালতে সব কিছু ভুল প্রমাণিত হয়ে যাবে। এছাড়াও বিজেপি একটি জাঙ্ক পার্টিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি করলে সাতখুন মাফ, আর অন্যেরা করলে বন্ধ ঝাঁপ”। এছাড়াও ভবিষ্যতে যুবশ্রী প্রকল্প থেকে শুরু করে কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে আগামী নির্বাচনে রাজ্যবাসী কে তৃণমূলে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি। এছাড়াও বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা পেতে হলে, যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হলে পুনরায় এই রাজ্যে তৃণমূলকেই ক্ষমতায় নিয়ে আসার কথাও বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি আরও বলেন, “পূর্বে আলু পেঁয়াজের দাম খোলাবাজারে বৃদ্ধি পেলে তা সরকারি হস্তক্ষেপে সাবসিটির মাধ্যমে অল্প দামে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিত রাজ্যে সরকার। বর্তমানে সেই অধিকার ও কেড়ে নিয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার, পাশাপাশি কষ্ট করে ফসল ফলাবে কৃষকরা আর সেই ফসল লুটে নিয়ে যাবে বিজেপি ঘনিষ্ঠ বড় বড় কোম্পানির মালিকের।এরপর সেই ফসল চড়া দামে বিক্রি করবে খোলাবাজারে। নিজেদের সৃষ্টি করা ফসলের উপর কোন অধিকার থাকবে না কৃষকদের”। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের প্রতিবাদে এইদিনের জনসভা মঞ্চ থেকে এভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় জনবিরোধী কৃষি আইনকে কোনভাবেই এই রাজ্যে বাস্তবায়িত করতে দেবেন না বলেও দাবি করেন তিনি। দু-একটি ছাড়া দেশের সমস্ত সংবাদমাধ্যম বিক্রি হয়ে গিয়েছে বিজেপির কাছে। বিজেপি ছাড়া অন্য কোন বোতল ছিপি সংক্রান্ত খবর সম্প্রচার করেন না তাঁরা বলেও দিনের সভা মঞ্চ থেকে সরাসরি সংবাদ মাধ্যমগুলোকে আক্রমণ করতে দেখা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে গিয়ে কোন বেসরকারি হাসপাতাল নার্সিংহোম কতৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করলে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এই রাজ্যে মতুয়া সম্প্রদায় ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষজনদের জন্য আলাদা আলাদা বোর্ড গঠন করে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে বলে এই দিন দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও ইসকনকে সাতশো একর জমি দান করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি পর্যটন হাব গড়ে তোলার জন্যেও জমি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। করোনা আবহে স্কুল বন্ধ থাকায় বারো লক্ষ দ্বাদশ ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে পড়াশোনা করার জন্য ট্যাব কিনতে একাউন্টে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও এই দিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।বিজেপি দলটিকে ওয়াশিং মেশিনের সাথে তুলনা করার পাশাপাশি এই রাজ্যে পঞ্চায়েত স্তর থেকে শহরতলীতে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে তৃণমূল সরকার বলেও এইদিন দাবি করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





