বাবা নেই মা বিয়ে করেছে অন্যত্র, পূর্ব বর্ধমানের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া নাবালককে নবদ্বীপ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে পাঠালো হোমে
দিবাকর দাস, হাকীকত নিউজ, নদিয়া: নবদ্বীপ শহর থেকে উদ্ধার হওয়া এক শিশুকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিল নবদ্বীপ থানার পুলিশ। আত্মীয় স্বজনেরা কেউ তার দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। তাই বাড়ি থেকে নিজেই বেরিয়ে এসেছিল ৮ বছরের নাবালক রাকেশ দাস। এরপর ঠাই হল থানায় সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে যেতে হল করিমপুরের একটি হোমে। তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানার বাঘনাপাড়া এলাকায়। তার বাবা ছোটবেলা থেকে নেই, মা অন্য একজনকে বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। কিছুদিন সে ছিল তার নিজের মামা ও দিদার কাছে। রাকেশ দাস নামে ওই নাবালক পূর্ব বর্ধমান থেকে কোনভাবে চলে আসে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে নদিয়ার নবদ্বীপে । অপরিচিত নাবালককে নবদ্বীপের হরিসভাপাড়া এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন এলাকার লোকজন। এলাকার লোকজন স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে জানালে, খবর পায় নবদ্বীপ থানার পুলিশ। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় দত্তপুলিয়ার শ্রীমা মহিলা সমিতির চাইল্ড লাইনের সঙ্গে। অবশেষে ওই নাবালককে বুধবার চাইল্ড লাইনের উদ্যোগেই পাঠানো হল করিমপুরের একটি হোমে। এই বিষয়ে শ্রীমা মহিলা সমিতির চাইল্ড লাইনের পক্ষে আশিস সরকার জানিয়েছেন , “নবদ্বীপ থানার পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। আমাদের উদ্যোগেই ওই শিশুটিকে পাঠানো হল করিমপুরের হোমে”। নবদ্বীপের হরিসভাপাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সোমবার ওই নাবালককে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের সন্দেহ জাগে। তারাই খবর দেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের। খবর দেওয়া হয় নবদ্বীপ থানার পুলিশকে। পুলিশ ওই নাবালককে উদ্ধার করে নিয়ে যায় নবদ্বীপ থানায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে রাকেশ দাস নামে ওই নাবালক জানায়, ইদানিং সে তার মামার বাড়িতে থাকত, তার বাবা মা না থাকায় দিদার কাছে থাকতো সে,দিদা অতটা দেখতো না, কোনোভাবে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চেপে নবদ্বীপ শহরে চলে আসে। তা জানার পর ওই নাবালকের মামার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু ওই নাবালকের মামাও দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন। এরপর যোগাযোগ করা হয় চাইল্ড লাইনের সঙ্গে। বুধবার চাইল্ড লাইনের লোকজন ওই নাবালককে নিয়ে যান। তাদের হাত ধরেই রাকেশ রওনা দেয় করিমপুরের হোমের পথে, হোমে যাওয়ার আগে জানা গেল সে খুবই খুশি, এখানে সবাই ভালো, বাড়ি ফিরতে চায় না সে, শেষমেষ নতুম জামা, বই ও ব্যাগ নিয়ে রওনা দিল করিমপুরের উদেশ্যে।






