বৈরুতে বিস্ফোরণ বাংলাদেশি ২১ নৌসেনা আহত, নিহত ২ প্রবাসী
আমিনুল হক,হাকীকত নিউজ, ঢাকা : লেবাননের রাজধানী বৈরুত বন্দরের কাছে একটি গোডাউনে বিস্ফোরণ অন্তত ২১ বাংলাদেশি নৌসেনা আহত হয়েছেন। তাদের একজনের অবস্থা গুরুতর। বিস্ফোরণে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহান বিজয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এতে বলা হয়, বৈরুত বন্দরের একটি ওয়্যারহাউজে ভয়াবহ বিস্ফোরণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মেরিটাইম টাস্কফোর্সের অধীনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ’বিজয়’-এর ২১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। আহত নৌসেনাকে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত মেডিকেল সেন্টার (এইউবিএমসি)-এ ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণে বাংলাদেশি প্রবাসী মেহদী ও মিজান নামের দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণ ঘটনার পর সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এক মুখপাত্র জানান, কোনো ধরণের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রায় ৬ বছর যাবত ২ হাজার ৭৫০ টনের মত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট গুদামজাত ছিলো। যাতে মঙ্গলবার ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা একশ’ দাঁড়িয়েছে। আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী সূত্রের খবর, আহত সেনাদেরকে ইউনিফিলের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হেলিকপ্টার/এম্বুলেন্সযোগে হামুদ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। এ বিষয়ে নৌবাহিনী জাহাজ, ইউনিফিল সদর দপ্তর ও বৈরুতস্থ বাংলাদেশী দূতাবাসের সঙ্গে নৌবাহিনী সদর দপ্তর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ইউনিফিল হেড অব মিশন এবং ফোর্স কমান্ডার ও মেরিটাইম টাস্কফোর্স কমান্ডার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার পরই বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মোস্তাহিদুর রহমান নৌবাহিনীর জাহাজ বিজয় পরিদর্শন করেন এবং আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। ঘটনার দূতাবাসে হেল্পলাইন খোলা হয়েছে। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দূতাবাসের হেল্পলাইন নম্বর: +৯৬১-৮১ ৭৪৪ ২০৭। বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবু সাহা দীর্ঘদিন লেবাননে প্রবাসী। তিনি জানিয়েছেন, মৃত দুইজনের মধ্যে মাউন্ট লেবাননে রয়েছে নিহত মেহেদী হাসানের মরদেহ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাদেশ্বরা গ্রামের মেহেদী বৈরুতের আশরাফি এলাকার একটি সুপার মার্কেটে কাজ করতেন। এ ছাড়া জিমাইজি এলাকার কর্মরত মিজান নামের অন্য এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। শরিয়তপুর নিবাসী মিজান বিস্ফোরণস্থলের প্রায় এক কিলোমিটার কাছের এক রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশি আহত হবার খবর বাবু সাহা জানতে পেরেছেন। দূতাবাসকে হতাহত হওয়ার ব্যাপারে প্রবাসীরা তথ্য জানাচ্ছেন। দূতাবাসও চিকিৎসা সহায়তাসহ নানাভাবে প্রবাসীদের সহায়তা করে যাচ্ছে। বিস্ফোরণের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বাবু সাহা জানান, তিনি বড় বড় ভবনের কাঁচ ভেঙ্গে পড়তে দেখেছেন।





