নবদ্বীপে স্বামী স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল
দিবাকর দাস, হকিকত নিউজ, নদিয়া: সাপ্তাহিক লকডাউনের তৃতীয়দিন বুধবার মধ্য দুপুরে স্বামী ও স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল নবদ্বীপে। নবদ্বীপ পৌরসভার ভট্টপাড়ার একটি বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল, সুভাষ ঘোষ (৪৯) ও তার স্ত্রী স্বপ্না ঘোষের (৩৯) নিথর দেহ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় লরি চালক সুভাষ ঘোষ ও তার পরিবার পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ভট্টপাড়া এলাকায় এক বাড়িতে ভাড়া থাকত। স্থানীয়রা জানিয়েছে যে ওই পরিবারটি বছর তিন চারেক আগে এই পাড়ায় আসে। মৃত ওই দম্পতির একমাত্র ছেলে সুব্রত ঘোষ এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল,সে ভালো ভাবেই স্থানীয় একটি স্কুল থেকে পাশ করেছে। প্রতিবেশীরা জানান, “পাড়ায় তেমনি মেলা মেশা ছিলনা ওই পরিবারটির”। ছেলে সুব্রত ঘোষ বলে, “বাবা সামান্য মানসিক রোগগ্রস্ত ছিল। লরি চালাতো বলে বেশিভাগ সময় বাইরেই থাকতো। মাঝে মধ্যে কাজ থেকে বাড়ি আসত। বাবা ও মায়ের মধ্যে এদিন সকালেও কোনও সমস্যা দেখতে পায়নি সে। এদিন সকালে বন্ধুর বাড়ি যাবো বলে কিছু সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে যায় ওই দম্পতির একমাত্র ছেলে সুব্রত। কিছু পরে বিশেষ প্রয়োজনে মাকে ফোন করলে মায়ের ফোন বন্ধ থাকায় সে এরপর বাড়ির পাশের এক বন্ধুকে ফোন করে। সেই ফোনে সে মায়ের সাথে কথাও বলে এবং মা কে বলে ফোনের সুইচ অফ করোনা। এই কিছুক্ষন পরে বাড়ি ফিরে এসে দেখতে পায়, চৌকির ওপর বিছানায় মায়ের দেহ নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর বাবা ওই ঘরেই কড়িবর্গায় গলায় ফাঁস লাগান অবস্থায় ঝুলছে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির পাশে থাকা বন্ধু স্নেহাশিষ চট্টোপাধ্যায় কে জানালে, সে অন্যান্য বন্ধুদের ডাকে। খবর পেয়ে পাড়ার অন্যান্য বন্ধুরাও ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় নবদ্বীপ থানার পুলিশ। পরে সুভাষ ঘোষের ঝুলন্ত দেহ সহ দুটি দেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। রহস্য মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বচসার জেরে সম্ভবত স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন স্বামী। পুলিশ এও জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে রহস্যজনকভাবে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু হলেও ওই দম্পতির ঘরের কোনও জিনিসই লণ্ডভণ্ড ছিল না। সঠিক কি কারনে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যু হল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে নবদ্বীপ থানার পুলিশ।





