দুই দিনের ঢাকা সফরে ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা
আমিনুল হক, হাকীকত নিউজ, ঢাকা : করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ঝটিকা সফরে ঢাকায় পৌছালেন ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে পৌছান। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিতে বিদেশসচিবের এই আকস্মিক সফর। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন এক বার্তায় জানিয়েছে, ভারতের বিদেশসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। এর আগে বিদেশসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চে ঢাকা সফর করেন তিনি। ছয়মাসের মাথায় হর্ষবর্ধন শ্রিংলার ঢাকায় দ্বিতীয় সফর। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর প্রথম কোন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার সফর। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি তিনি বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সংক্ষিপ্ত এ সফরের সময় বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের বিদেশ সচিবর। বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে সে দেশের ভারতের বিদেশসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের দুই দেশের নির্ধারিত অনেক বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অনির্ধারিত সফর নিয়ে কোনো পক্ষই মন্তব্য করেনি। সাধারণত, বিদেশ সচিব পর্যায়ের এ ধরনের সফরের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে, করোনাকালীন বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হয়। পণ্য সরবরাহব্যবস্থায় এই বাধা দূর করতে ভারত রেল ও নৌপথে দ্রুত পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নেয়। জানা গেছে, করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কাছাকাছি এসেছে চীন। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের এই ঘনিষ্টতা ভারতের জন্য নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। তাই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে যত বেশি সম্ভব সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ভারত। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করা সম্ভব বলে মনে করছে দেশটি।






