বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস
আমিনুল হক , হাকীকত নিউজ, ঢাকা : ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য। সেদিন বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করে থেমে থাকেনি ঘাতকে অস্ত্র। তারা একে একে নৃশংসভাবে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকে। এছাড়া ভাগ্নে শেখ মণিকে সস্ত্রীক হত্যা ছাড়াও বঙ্গবন্ধু আরও স্বজনদের হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছোট বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে থাকায় প্রাণে বেচে যান। বাংলাদেশের জাতির জনকে হারানোর বেদনা নিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাংলার মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় দিনটি পালন করবে। দিবসটি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। করোনামহামারি কারণে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপি কর্মসূচি পালন করবে। ২০২০ সালকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে। ১৭ মার্চ মুজিবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল প্রবন্ধ উপস্থানের কথা ছিল। পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের অনেকেরই অনুষ্ঠানে যোগ দেবার কথা ছিল। করোনা মহামারির বিস্তাররোধে সেই অনুষ্ঠানসহ সকল প্রকার অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। মুজিববর্ষে জাতীয় শোকদিবস দিবসটি বড় পরিসরে পালনের পরিকল্পনা কথা ছিল। অংশ নেবার কথা ছিল বিদেশি অতিথিদের। কিন্তু করোনার কারণে সে অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শোক ও বেদনার প্রকাশকে সীমিত করে এনেছেন। তিনি শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে মেনে জনসমাগমের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। বার বার এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকালে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষ থেকে পৃথক আলোচনাসভার আয়োজন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর কথা আসলেই সামনে ভেসে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের কথা। আর সেই মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা এবং এককোটি বাঙালিকে আশ্রয়, খাদ্য, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করা ইত্যাদি। বাঙালির সেই দুঃসময়ে চায়নাপন্থীরা যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। যা ওঠে আসে বিশিষ্ট গবেষক ও প্রেস ইনষ্টিটিউট অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক (ডিজি) জাফর ওয়াদের ভাষায়। তিনি বলেন, ভারত আমাদের পরম বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে যখন ভারত আমাদের পাশে দাড়িয়েছে, তখন চীন বিরোধী ভূমিকায় অবস্থান নিয়েছে। আর স্বাধীনতার পর চীনা পন্থীরা সদ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে লুটপাট চালিয়েছে।





