স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই শতভাগ বিদ্যুত বাংলাদেশে
আমিনুল হক,হাকিকত নিউজ, ঢাকা : মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসছে বাংলাদেশ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুজিববর্ষের নানা আয়োজন চলবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। সব ঘর আলোকিত হবে। শেখ হাসিনার টানা তৃতীয়বারের মত দেশপরিচালনার দায়িত্ব পালনের দ্বিতীয় বছরপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের বর্তমান মেয়াদের দুই বছর পূর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। গত একযুগে আমরা জনগণের জন্য কী করেছি, তা মূল্যায়নের ভার জনগণের। ২০০৯ সালে তার সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বিদ্যুতের দুঃসহ যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তখন এমন পরিস্থিতি ছিল, যখন বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন যাবে তার কোন নিশ্চয়তা ছিল না। তার সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ উৎপাদনের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ২০০৫-৬ সালে ছিল ৪৭ শতাংশ। বর্তমানে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পায়রাতে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে শেখ হাসিনা আরও বলেন, এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজের ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময় ২০২৩ সালের এপ্রিল নাগাদ এই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করবে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলির নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ট্যানেলের ৬২ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।





