অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরাকি ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনি অধিকার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেননি?

নন্দ দুলাল ভট্টাচার্য, হাকিকত নিউজ, কোলকাতা : (AITUC) অনুমোদিত সিকিউরিটি এন্ড allied ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন যারা অসংগঠিত শ্রমিক দের সংগঠন এবং অনবরত অসংগঠিত শ্রমিক দের সমস্যা নিয়ে কাজ করে চলেছেন আজ একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাস এবং সদস্য নাসির মন্ডল, শাহিদ অলি গাজী, লক্ষি কুন্ডু , কুদ্দুস অলি শেখ, কল্যাণ কুমার সরকার, মুমারিকা মাজী দৈনন্দিন কাজের সমস্যা এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নিজেদের মতামত রাখলেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাস আরো যোগ করলেন যে আগামী দিনে আমাদের আন্দোলন কে আরো জোরদার এবং ফলপ্রসূ করতে আমরা আমাদের সংগঠনের একটি সর্ব ভারতীয় রূপরেখা তৈরী করতে চলেছি । ভারতীয় অর্থনীতিতে বরাবরই অসংগঠিত শিল্পশ্রমিকদের একটি বিশাল ভূমিকা রয়ে গিয়েছে। ভারতীয় অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য হল বিপুল সংখ্যায় অস্বীকৃত বা অসংগঠিত শ্রমিকদের অস্তিত্ব। একটি অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, ভারতীয় কর্মীবাহিনীর ৯৩ শতাংশই হয় স্বনিযুক্ত বা অসংগঠিত ক্ষেত্রে চাকুরিরত। ভারতের শ্রম-বাজারে যে চিত্র মেলে তার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম অস্বীকৃত ক্ষেত্রের প্রাধান্য। যদিও দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি)ওই সেক্টরের অবদান ৫০ শতাংশ, কিন্তু মোট শ্রমশক্তির ৯০ শতাংশই এই অস্বীকৃত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়োজিত রয়েছে। সাব-কমিটি অন ন্যাশনাল কমিশন ফর এন্টারপ্রাইজেস ইন দ্য আনঅরগানাইজড সেক্টর এর সাব কমিটির করা সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, অসংগঠিত ক্ষেত্রের জিডিপিতে অবদান ৫০ শতাংশ।এই ক্ষেত্রে বেশির ভাগই অস্থায়ী বা চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক । কোনও সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যানমুলক বিধি নেই, ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চনা করা হয় । মানব সম্পদের খারাপ মান (শিক্ষা, প্রশিক্ষিত করার সুযোগ এবং দক্ষতার দিক দিয়ে) এই ধরনের অসংগঠিত শ্রমিককে ভঙ্গুর, দুর্বল ও মালিকের সঙ্গে দরকষাকষির অনুপযুক্ত করে রেখেছে। এই কারণে এই সেক্টরের শ্রমিকরা কম খরচে কাজ উদ্ধারের উপায়ে পরিণত হয়েছে। ধরে নেওয়া হয়েছে, এদের কোথাও কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। অতএব এদের যথেচ্ছ শোষণ করা যায়। বিশ্বায়নের আগমনের সঙ্গে এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত উৎপাদনের পুনর্সংগঠনের ফলে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হল যেখানে উৎপাদন ব্যবস্থা একটি বিশেষ জায়গায় আবদ্ধ হয়ে পড়ল এবং তার কোনও মান রইল না। সেখানে অনেক নমনীয় শর্তে শ্রমশক্তিকে ব্যবহার করা শুরু হল, অস্থায়ী ও আংশিক সময়ের জন্য শ্রমিক নিয়োগ বাড়ল। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী হল, প্রতিযোগিতার বাজারে শ্রমের পিছনে খরচ কমিয়ে টিঁকে থাকার চেষ্টা। সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় এই শ্রমশক্তি কাজের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষার দিক দিয়ে প্রচণ্ড ভঙ্গুর। প্রচলিত শ্রম সংক্রান্ত আইনে শ্রমিকদের জন্য যে সব নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে তার কোনওটাই তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এই ধরনের আধুনিক অস্বীকৃত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব ও ভঙ্গুরতা ক্রমশ বাড়ছে। তার অন্যতম কারণ হল এই সেক্টরের শ্রমিকদের সংগঠিত করা ও যৌথ দরকষাকষির ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া নানা কারণে দুর্বল।স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও আমাদের দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা কি পঞ্চাশ বছর আগে আইএলও কনভেনশনে যে সব বিষয় বলা হয়েছিল সেই অনুযায়ী ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনি অধিকার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেননি? আসলে একটি সুসংহত আইনের খুবই অভাব যেখানে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, কাজের সুযোগ, আয়, জীবনের নিরাপত্তা এবং বৃদ্ধাবস্থায় জীবন ধারনের নিরপত্তার বিষয়গুলি থাকবে। তবু ভারত সরকার বড় শিল্প সংস্থার জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে কিন্তু অসংগঠিত শ্রমিকেদর কান্না শোনার লোক নেই। Even after so many years of independence, workers in the unorganized sector of our country not been able to get the minimum social security and legal rights? # Security& allied workers union # unorganized workers # Social security # legal rights

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search Videos