চাহিদা নেই ঠাকুরের সাজের, করোনা অতিমারীর প্রভাবে সাজশিল্প তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে

দিবাকর দাস, হাকিকত নিউজ ,নদিয়া : ধর্মপ্রাণ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। সারা বছর ধরেই কোন না কোন দেবদেবীর পূজার্চনা হয়ে থাকে হিন্দু শাস্ত্র মতে। আর এই ধর্মীয় পূজার্চ্চনার সাথে গ্রামবাংলায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা। তারই মধ্যে একটি প্রধান অঙ্গ হলো দেবদেবীর মূর্তির সাজ শিল্প। দেবদেবীর মূর্তিকে পূর্ণাঙ্গ রূপে সুন্দর রূপ দান করতে সাজ শিল্পের বহিঃপ্রকাশ বিশেষভাবে প্রাধান্য লাভ করে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে ভক্তবৃন্দদের মনের মনিকোঠায়। কিন্তু এই বছর করোনা অতিমারি ও দীর্ঘ লকডাউনের প্রভাবে সেই শিল্প আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শোলা ও বিভিন্ন ধরনের রং-বেরংয়ের পুতি সহ একাধিক চমকপ্রদ সামগ্রী দিয়ে গড়ে তোলা হয় প্রতিমার সাজ। যা দেবদেবীর মূর্তি কে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে মানুষের কাছে। প্রসঙ্গত, নদিয়ার নবদ্বীপের সাজ শিল্পীদের কদর রয়েছে সারা দুনিয়াব্যাপী। প্রতিবছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেবদেবীর প্রতিমার পাশাপাশি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের সৃষ্টি করা সাজ সরঞ্জাম দিয়ে প্রতিমা সুসজ্জিত করার পর তা পাড়ি দেয় বিদেশের মাটিতে। কিন্তু এই বছর সেই শিল্পকলাকে কার্যত গ্রাস করেছে করোনা আতঙ্ক ও দীর্ঘ লকডাউন। নবদ্বীপ রানির ঘাট এলাকায় প্রসিদ্ধ সাজ শিল্পী শম্ভু পালের কারখানায় মোট ১৬ - ১৭ জন কর্মী রয়েছেন, যারা প্রতিবছর সরস্বতী পুজো সময় থেকেই দুর্গা প্রতিমার সাজ প্রস্তুত করা শুরু করে দেন। কিন্তু এই বছর করোনার প্রভাবে সেই অর্থে কোন বায়নানামা না থাকায় সাজ প্রস্তুত করতে পারেননি শিল্পীরা। অন্যান্য বছরগুলোতে কলকাতার কুমোরটুলি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও রাজ্যের বাইরে ও তাদের সৃষ্টি করা সাজের দ্বারা সুসজ্জিত দুর্গা প্রতিমা শোভা পায় মণ্ডপে মণ্ডপে। কিন্তু এই বছর শুধুমাত্র কলকাতা কুমোরটুলির বায়নানামা ছাড়া অন্য আর কোন বায়না পাননি সাজ শিল্পীরা। এই বিষয়ে যথেষ্ট আক্ষেপের সুরেই সাজ শিল্পী শম্ভু পাল বলেন, করোনা বিপর্যয়ের ফলে বর্তমানে তারা প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এমনকি এখনো পর্যন্ত প্রাচীন এই শিল্পকলাকে রক্ষা করতে কোনো রকম সরকারি সাহায্য পাননি তারা। চলতি বছরে শুধুমাত্র আমেরিকার একটি বায়না ছাড়া বিদেশের অন্য কোন বায়নানামা পাননি শম্ভু বাবু। অন্যান্য বছরগুলোতে প্রতিমার সাজ সরঞ্জাম দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেন না তারা, সেই জায়গা থেকে এখনো পর্যন্ত দুর্গাপূজার মাত্র দশ দিন আগেও শুধুমাত্র কলকাতা কুমোরটুলি ছাড়া সে অর্থে তেমন কোনো কাজের বায়নানামা পাননি তিনি। যার কারণে যথেষ্ট প্রভাব পড়ছে তাদের রুটি-রোজগারের উপর। ভবিষ্যৎতে ভালো হতে পারে শুধুমাত্র এই ভাবনাতে বাধ্য হয়ে ব্যাংকিং ঋণ সহ খোলাবাজার থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে তাদের বলেই দিন জানানো সাজ শিল্পী শম্ভু পাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search Videos