স্কুল খোলার দাবিতে পথ অবরোধ- বিক্ষোভ ও ডি আই অফিসে ঘেরাও কর্মসূচি ও আন্দোলনে।

রবীন্দ্রনাথ বর্মন, হাকিকত নিউজ ,কোচবিহার : উচ্চ মাধ্যমিকে রেজাল্ট বিশৃঙ্খলা, অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে পঠন-পাঠন চালু, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত স্তরে ফি মকুব, পরিবহনে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে রাজ্য প্রতীকী অবরোধের অংশ হিসেবে আজ অল ইন্ডিয়া ডিএসও এর পক্ষ থেকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও স্থানীয় হরিশপাল চৌপথীতে প্রতীকী পথ অবরোধ করা হয়। কোতোয়ালি থানার আইসি'র নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এলে , আন্দোলনের নেতৃত্বকারীদের সঙ্গে কথা হয়, এবং 1 ঘন্টা অবরোধের পর তুলে নেওয়া হয়। এরপর একটি সুসজ্জিত মিছিল জেলার ডি আই অফিসের সামনে আসে এবং অবিলম্বে একাদশ শ্রেণীর ভর্তির ফি মুকুবের দাবিতে প্রায় তিন ঘণ্টা ডি আই অফিস ঘেরাও অবরোধ চলে। প্রথমে ডি আই সাহেব ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা না করলেও আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে তিন ঘণ্টা পরে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর ছাত্রছাত্রীদের দাবি মেনে ডি আই সাহেব আগামীকাল সার্কুলার জারি করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আগামীকালের মধ্যে সমস্ত বিদ্যালয়ে এই ভর্তির ফি কমানোর ব্যাপারে সার্কুলার জারি করবেন বলে কথা দেন। তার এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদের ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়। এই দুটি কর্মসূচিতেই নেতৃত্ব দেন অল ইন্ডিয়া ডি এস ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সহ-সভাপতি তথা কোচবিহার জেলার সভাপতি কমরেড স্বপন কুমার বর্মন। স্বপন বর্মন বলেন, আজকের এই জয়, ছাত্রসমাজের দীর্ঘদিনের একটানা লড়াইয়ের ফল। AIDSO রাজ্য সম্পাদক মণিশংকর পট্টনায়ক বলেন -
"পূর্ব ঘোষিত এই কর্মসূচিতে রাজ্যের প্রায় ১০০ টি জায়গায় সাধারণ ছাত্রছাত্রী সহ আমাদের সংগঠনের কর্মীরা প্রতীকী অবরোধে সামিল হয়। এই কর্মসূচিতে আজ চলেছে নির্মম অত্যাচার। গ্রেপ্তার হয়েছে শতাধিক ছাত্র কর্মী। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে কর্ণপাত না করে কার্যত ছাত্রছাত্রীদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে রাজ্য জুড়ে। বহুদিন ধরেই এই দাবিতে জেলাস্তরে, রাজ্যস্তরে আমরা আন্দোলন করেছি। শিক্ষামন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর সময় হচ্ছে না চিঠির উত্তর দেওয়ার বা সাক্ষাৎ করবার। উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টকে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা আমরা প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছি যে, একজন ছাত্র ছাত্রীর মেধা বিচারের জন্য সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়াটি কোনো বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিই নয়। এই পদ্ধতি অবৈজ্ঞানিক ও অনৈতিক। স্বাভাবিকভাবেই এই পদ্ধতির অস্পষ্টতা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নানা অবিশ্বাস ও অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র বিক্ষোভ সরকারের বিবেচনাহীন পদক্ষেপেরই ফল। অবিলম্বে অসন্তুষ্ট ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট স্নাতক স্তরে ভর্তি শুরু হওয়ার আগেই পুনর্বিবেচনা করতে হবে। স্নাতক স্তরে ভর্তির সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বিষয়ে সরকারকে ছাত্র-শিক্ষক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করতে হবে। অন্যথায় আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং তার সুযোগ নিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি করবে নানান সুযোগ সন্ধানী চক্র। এর সাথেই১২ থেকে ১৭ বছরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভ্যাকসিন এর ব্যবস্থা করে স্কুল সহ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবিলম্বে সমস্ত ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীদের ভ্যাক্সিন দিয়ে অফলাইন পঠন-পাঠন চালু, ফি মকুব, পরিবহনে ছাত্র কনসেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবিতে আজ যেভাবে জেলায় জেলায় পুলিশ ছাত্র কর্মীদের হেনস্থা করেছে, চড়াও হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, এই ঘটনাকে ধিক্কার জানাই আমরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী কাল *২৭ জুলাই রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ দিবসের আহ্বান জানাচ্ছি।"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Search Videos